Latest

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬: বেতন-ভাতা ও পেনশনে বড় পরিবর্তন, বাড়ছে বাড়িভাড়া-চিকিৎসা ভাতা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে এসেছে। জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫-এর প্রতিবেদনের ওপর সচিব কমিটির সুপারিশে ২০টি গ্রেডের মূল বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, টিফিন, মোবাইল ও বিভিন্ন ভাতা, উচ্চতর গ্রেড এবং অবসরভোগীদের পেনশন কাঠামোয় একাধিক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, সচিব কমিটির সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে এবং জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬ চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছর ও আগামী ২০২৭-২০২৮ অর্থবছরে নির্ধারিত সময় ও হারে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। নতুন স্কেল কার্যকর হলে একদিকে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, অন্যদিকে কিছু নতুন ভাতা চালু বা পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

২০ গ্রেডের মূল বেতন বাড়ছে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ

নতুন বেতন কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো ২০টি গ্রেডের মূল বেতন বৃদ্ধি। প্রস্তাবিত কাঠামোয় গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়েছে।

এর ফলে নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতনে তুলনামূলকভাবে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হারও নির্ধারণ

নতুন কাঠামোয় ইনক্রিমেন্ট বা বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গ্রেডভিত্তিক হার নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী—

  • ২য় গ্রেডে: ২.৭৫ শতাংশ
  • ৩য় ও ৪র্থ গ্রেডে: ৩.৫০ শতাংশ
  • ৫ম গ্রেডে: ৪.০০ শতাংশ
  • ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডে: ৫ শতাংশ

অর্থাৎ নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়মে পরিবর্তন

একই পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী সরকারি কর্মচারীদের জন্য উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ব্যবস্থাতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে।

সাধারণ পদের ক্ষেত্রে একই পদে ৮ বছর পূর্ণ হলে প্রথম উচ্চতর গ্রেড এবং এরপর আরও ৬ বছর পূর্তিতে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে ব্লক পদে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে—প্রথম ৮ বছর পূর্তিতে একটি, পরবর্তী ৬ বছর পূর্তিতে দ্বিতীয়টি এবং এরপর আরও ৮ বছর পূর্তিতে তৃতীয় উচ্চতর গ্রেড দেওয়া হবে।

এ পরিবর্তনের ফলে পদোন্নতির সুযোগ সীমিত এমন পদে দীর্ঘদিন কর্মরত কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে।

বাড়িভাড়া ভাতায় বড় পরিবর্তন

নতুন বেতন কাঠামোয় বাড়িভাড়া ভাতার হার মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশ হিসেবে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। অঞ্চল ও গ্রেডভেদে এ হার আলাদা হবে।

গ্রেড ১৬ থেকে ২০

  • ঢাকা সিটিতে: ৬০%
  • অন্যান্য সিটি ও সাভার উপজেলায়: ৫০%
  • অন্যান্য স্থানে: ৪৫%

গ্রেড ১০ থেকে ১৫

  • ঢাকা সিটিতে: ৫০%
  • অন্যান্য সিটি ও সাভার উপজেলায়: ৪০%
  • অন্যান্য স্থানে: ৩৫%

গ্রেড ৫ থেকে ৯

  • ঢাকা সিটিতে: ৪৫%
  • অন্যান্য সিটি ও সাভার উপজেলায়: ৩৫%
  • অন্যান্য স্থানে: ৩০%

গ্রেড ১ থেকে ৪

  • ঢাকা সিটিতে: ৪০%
  • অন্যান্য সিটি ও সাভার উপজেলায়: ৩০%
  • অন্যান্য স্থানে: ২৫%

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বাড়িভাড়া ভাতার হার অঞ্চলভেদে পরিবর্তিত হওয়ায় একই মূল বেতন পেলেও কর্মস্থলের অবস্থান অনুযায়ী মোট মাসিক প্রাপ্য ভিন্ন হতে পারে।

চিকিৎসা ভাতা বয়সভেদে বাড়বে

চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও বয়সভিত্তিক নতুন কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা ভাতার পরিমাণও বাড়বে।

প্রস্তাবিত হার হলো—

বয়সমাসিক চিকিৎসা ভাতা
৫০ বছর পর্যন্ত৩,০০০ টাকা
৫০ বছর থেকে পিআরএল পর্যন্ত৪,০০০ টাকা
৬০ থেকে ৭০ বছর৫,০০০ টাকা
৭০ বছরের ঊর্ধ্বে৬,০০০ টাকা

এর ফলে বয়স্ক সরকারি কর্মচারী ও অবসরভোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

শিক্ষা সহায়ক ভাতায় পরিবর্তন নেই

নতুন সুপারিশে শিক্ষা সহায়ক ভাতা অপরিবর্তিত রাখার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ এ খাতে নতুন করে ভাতার হার বাড়ানোর প্রস্তাব নেই।

একইভাবে উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি বিনোদন ভাতার ক্ষেত্রেও কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।

১১-২০ গ্রেডে যাতায়াত ও টিফিন ভাতা

নতুন কাঠামোয় ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভাতা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

  • যাতায়াত ভাতা: মাসে ৬০০ টাকা
  • টিফিন ভাতা: মাসে ৫০০ টাকা

অর্থাৎ এই দুই খাতে একজন যোগ্য কর্মচারী মাসে মোট ১,১০০ টাকা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

ধোলাই ভাতা

বিশেষ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৩০০ টাকা ধোলাই ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মোবাইল ভাতা গ্রেডভেদে

মোবাইল ভাতাতেও গ্রেডভিত্তিক কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • ১ম থেকে ৫ম গ্রেড: মাসে ৫০০ টাকা
  • ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড: মাসে ১৫০ টাকা

কার্যভার ভাতা ১,৫০০ টাকা

অতিরিক্ত দায়িত্ব বা কার্যভার পালনের ক্ষেত্রে সকল গ্রেডের জন্য মাসিক ১,৫০০ টাকা কার্যভার ভাতা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নববর্ষ ভাতা হবে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ

নতুন কাঠামোর অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো নববর্ষ ভাতা বৃদ্ধি। প্রস্তাব অনুযায়ী সকল গ্রেডের সরকারি কর্মচারী মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে নববর্ষ ভাতা পাবেন।

তবে উৎসব ভাতার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।

প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য নতুন ভাতা

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য জনপ্রতি ৩,০০০ টাকা হারে ভাতা দেওয়া হবে। তবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

অর্থাৎ সর্বোচ্চ দুই সন্তানের ক্ষেত্রে একজন কর্মচারী মাসে ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত এই ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

পাহাড়ি এলাকা ও হাওর-চরাঞ্চলে বিশেষ ভাতা

দুর্গম ও বিশেষ ভৌগোলিক এলাকায় কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ভাতার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

পাহাড়ি ভাতা

পার্বত্য জেলার জেলা সদর ও সদর উপজেলার জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ, তবে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা

অন্যান্য নির্ধারিত পাহাড়ি এলাকার জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ, তবে সর্বোচ্চ ৫,৫০০ টাকা

হাওর/দ্বীপ/চর ভাতা

হাওর, দ্বীপ ও চর এলাকায় কর্মরতদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ, তবে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা ভাতা পাওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ধরনের ভাতা দুর্গম এলাকায় সরকারি কর্মচারীদের কর্মস্থলে থাকার ক্ষেত্রে আর্থিক প্রণোদনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা

প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণে কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ১০ শতাংশ হারে প্রেষণ ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে কুক এলাউন্স ও সিকিউরিটি এলাউন্স অপরিবর্তিত রাখার কথা বলা হয়েছে।

ভ্রমণ ভাতা পুনর্নির্ধারণের সুপারিশ

সরকারি চাকরিজীবীদের ভ্রমণ ভাতা পুনর্নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত হার বা বিস্তারিত কাঠামো পরবর্তীতে অর্থ বিভাগ পৃথক আদেশের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ ভ্রমণ ভাতার ক্ষেত্রে এখনো নির্দিষ্ট অঙ্ক জানার জন্য অর্থ বিভাগের পরবর্তী আদেশের অপেক্ষা করতে হবে।

মাতৃত্বকালীন ছুটি ও আপ্যায়ন ভাতা অপরিবর্তিত

মাতৃত্বকালীন ছুটির বর্তমান ব্যবস্থা বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে আপ্যায়ন ভাতাও পূর্বের ন্যায় বহাল থাকবে।

পেনশন ও আনুতোষিকে মূল হার অপরিবর্তিত

পেনশন ও আনুতোষিক নির্ধারণের মূল হার অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে অবসরভোগীদের নীট পেনশন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে।

অবসরভোগীদের নীট পেনশন বাড়বে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ

প্রস্তাবিত কাঠামোয় অবসরভোগীদের বর্তমান নীট পেনশনের ওপর আয়ভেদে আলাদা হারে বৃদ্ধি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বর্তমান নীট পেনশনবৃদ্ধির হারনতুন ন্যূনতমনতুন সর্বোচ্চ
সর্বনিম্ন ৯,০০০ টাকা১০০%১০,০০০ টাকা১৮,০০০ টাকা
৯,০০১–২০,০০০ টাকা৭৫%১৮,০০১ টাকা৩৫,০০০ টাকা
২০,০০১–৩০,০০০ টাকা৬৫%৩৫,০০১ টাকা৪৯,০০০ টাকা
৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা৬০%৪৯,০০১ টাকা৬২,০০০ টাকা
৪০,০০০ টাকা ও তদূর্ধ্ব৫৫%৬২,০০১ টাকা৭০,২০০ টাকা

অর্থাৎ তুলনামূলক কম নীট পেনশন পাওয়া অবসরভোগীদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার বেশি রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন স্তরে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে উচ্চতর পেনশনধারীদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ধাপে ধাপে কমে ৫৫ শতাংশে নামবে।

পেনশনভোগীদের প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতারও প্রস্তাব

শুধু কর্মরত সরকারি কর্মচারী নয়, পেনশনভোগীদের প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্যও প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা কার্যকর করার সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে।

এটি বাস্তবায়িত হলে অবসর-পরবর্তী সময়ে প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা পেনশনভোগীরাও অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার আওতায় আসবেন।

বিশেষ সুবিধা আর থাকছে না

নতুন বেতন স্কেল চালুর সঙ্গে বর্তমানে দেওয়া বিশেষ সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে মূল বেতনের ৫ শতাংশ এবং ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে গ্রেডভিত্তিক ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নতুন বেতন স্কেল জারি ও কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা বাতিল করা হবে।

এ কারণে শুধু মূল বেতন কত শতাংশ বাড়ছে তা দেখলেই সরকারি কর্মচারীদের প্রকৃত আয় বৃদ্ধির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। নতুন মূল বেতন, বাড়িভাড়া, অন্যান্য ভাতা এবং বিশেষ সুবিধা বাতিল—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

দুই অর্থবছরে বাস্তবায়ন

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছর এবং আগামী ২০২৭-২০২৮ অর্থবছর—এই দুই অর্থবছরে নির্ধারিত সময় ও হারে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।

অর্থাৎ নতুন স্কেল এক ধাপে পুরোপুরি কার্যকর না হয়ে নির্ধারিত সময়সূচি ও হারে দুই অর্থবছরে বাস্তবায়নের কাঠামো রাখা হয়েছে।

কারা সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন?

প্রস্তাবিত কাঠামো বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি শ্রেণির সরকারি কর্মচারী ও অবসরভোগী তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রথমত, ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন। দ্বিতীয়ত, একই পদে দীর্ঘদিন কর্মরতদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকছে। তৃতীয়ত, ঢাকা ও অন্যান্য সিটি করপোরেশন/সাভারসহ কর্মস্থলের ধরন অনুযায়ী বাড়িভাড়া ভাতার নতুন হার কার্যকর হলে মাসিক মোট প্রাপ্তি বাড়তে পারে।

এছাড়া বয়স্ক কর্মচারীদের জন্য বয়সভিত্তিক চিকিৎসা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা কর্মচারীদের জন্য নতুন ভাতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

অন্যদিকে অবসরভোগীদের ক্ষেত্রে নীট পেনশনের ওপর ৫৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব সবচেয়ে বড় আর্থিক পরিবর্তনগুলোর একটি।

তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়নে প্রজ্ঞাপন গুরুত্বপূর্ণ

নতুন বেতন স্কেল নিয়ে প্রস্তাবিত কাঠামোতে বেতন ও বিভিন্ন ভাতার একাধিক পরিবর্তনের কথা বলা হলেও বাস্তবে কর্মচারীরা কোন তারিখ থেকে কত টাকা পাবেন, বেতন নির্ধারণ কীভাবে হবে, পুরোনো ও নতুন বেতনের সমন্বয় কীভাবে করা হবে, ইনক্রিমেন্ট কীভাবে গণনা হবে এবং বকেয়া বা এরিয়ার কীভাবে নিষ্পত্তি হবে—এসব বিষয় চূড়ান্ত বাস্তবায়ন আদেশে স্পষ্ট হবে।

বিশেষ করে ভ্রমণ ভাতার নতুন হার, নতুন বেতন নির্ধারণের ধাপ, দুই অর্থবছরে বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এবং বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা বাতিলের কার্যকর তারিখ জানতে অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সারসংক্ষেপ

সব মিলিয়ে প্রস্তাবিত জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। মূল বেতন বৃদ্ধি, গ্রেডভিত্তিক ইনক্রিমেন্ট, উচ্চতর গ্রেড, অঞ্চলভেদে বাড়িভাড়া, বয়সভিত্তিক চিকিৎসা ভাতা, নতুন প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা, দুর্গম এলাকার বিশেষ ভাতা এবং অবসরভোগীদের নীট পেনশন বৃদ্ধির কারণে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের আর্থিক সুবিধায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে একই সঙ্গে বর্তমান বিশেষ সুবিধা বাতিল হওয়ায় একজন কর্মচারীর প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি নির্ধারণ করতে নতুন বেতন ও ভাতার পাশাপাশি বিলুপ্ত হতে যাওয়া সুবিধাটিও হিসাব করতে হবে। ফলে চূড়ান্ত আর্থিক প্রভাব জানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপন ও বাস্তবায়ন নির্দেশনা প্রকাশের পর গ্রেডভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ হিসাব করাই হবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *