Latest

প্রস্তাবিত পে-স্কেল ২০২৫: গ্রেড ১১ থেকে ২০-এ বৈষম্যের পাহাড়, বেসিকের ব্যবধান মাত্র ৫০০ টাকা!

‘প্রস্তাবিত পে-স্কেল ২০২৫’ এর খসড়া ও তুলনামূলক চিত্র বিশ্লেষণ করে সরকারি চাকরিজীবীদের নিম্ন ও মধ্যম স্তরে এক নজিরবিহীন ও বৈষম্যমূলক কাঠামোর তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষ করে গ্রেড ১১ থেকে গ্রেড ২০ পর্যন্ত—এই ১০টি গ্রেডের মোট বেসিকের ব্যবধান মাত্র ৫,০০০ টাকা! অন্যদিকে প্রথম ১০টি গ্রেডের (গ্রেড ১ থেকে ১০) মোট বেসিকের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা

সম্প্রতি প্রকাশিত প্রস্তাবিত পে-স্কেলের গ্রেডভিত্তিক এই তুলনামূলক চিত্র দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে পে-স্কেলের এই অসামঞ্জস্যতা বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দেবে এবং নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দেবে।

গ্রেড ১১ থেকে ২০: বেসিক পার্থক্যের করুণ চিত্র

প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রেড ১১ থেকে গ্রেড ২০ পর্যন্ত প্রতিটি গ্রেডে বেসিক বৃদ্ধির হার বা পরবর্তী গ্রেডের সাথে ব্যবধান অত্যন্ত নগণ্য। কোথাও ৫০০ টাকা, কোথাও ৭০০ বা ৮০০ টাকা, আবার কোথাও ৩০০ টাকা ব্যবধান রাখা হয়েছে:

  • গ্রেড-১১: ২৫,০০০ টাকা (গ্রেড-১২ এর তুলনায় +৭০০ টাকা)

  • গ্রেড-১২: ২৪,৩০০ টাকা (গ্রেড-১৩ এর তুলনায় +৩০০ টাকা)

  • গ্রেড-১৩: ২৪,০০০ টাকা (গ্রেড-১৪ এর তুলনায় +৫০০ টাকা)

  • গ্রেড-১৪: ২৩,৫০০ টাকা (গ্রেড-১৫ এর তুলনায় +৯০০ টাকা)

  • গ্রেড-১৫: ২২,৮০০ টাকা (গ্রেড-১৬ এর তুলনায় +৯০০ টাকা)

  • গ্রেড-১৬: ২১,৯০০ টাকা (গ্রেড-১৭ এর তুলনায় +৫০০ টাকা)

  • গ্রেড-১৭: ২১,৪০০ টাকা (গ্রেড-১৮ এর তুলনায় +৮০০ টাকা)

  • গ্রেড-১৮: ২১,০০০ টাকা (গ্রেড-১৯ এর তুলনায় +৫০০ টাকা)

  • গ্রেড-১৯: ২০,৫০০ টাকা (গ্রেড-২০ এর তুলনায় +৫০০ টাকা)

  • গ্রেড-২০: ২০,০০০ টাকা

মূল পয়েন্ট: গ্রেড ১১ থেকে গ্রেড ২০ পর্যন্ত মোট ১০টি গ্রেডের ক্ষেত্রে বেসিকের মোট ব্যবধান মাত্র ৫,০০০ টাকা! এর মধ্যে কিছু ধাপে ব্যবধান মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

বিপরীত চিত্র উচ্চতর গ্রেডগুলোতে (গ্রেড ১ থেকে ১০)

এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যায় পে-স্কেলের উপরের সারির গ্রেডগুলোতে। গ্রেড ১ থেকে গ্রেড ১০ পর্যন্ত—এই ১০টি গ্রেডের ক্ষেত্রে বেসিকের মোট পার্থক্য দাঁড়িয়েছে এক বিশাল অংকে। প্রথম ১০টি গ্রেডের বেসিকের মোট ব্যবধান ১ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা!

বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চতর গ্রেডগুলোতে যেখানে পদোন্নতি বা গ্রেড পরিবর্তনের সাথে সাথে বেসিক বেতনের উল্লম্ফন ঘটে (যেমন গ্রেড-১ এ ১,৬০,০০০ টাকা এবং গ্রেড-২ এ ১,৩২,০০০ টাকা, অর্থাৎ ব্যবধান ২৮,০০০ টাকা), সেখানে নিম্ন গ্রেডগুলোতে কর্মচারীদের জীবনমানের কথা বিবেচনা না করেই মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার প্রতীকী ব্যবধান রাখা হয়েছে।

কর্মচারীদের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ

নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের চাকরিজীবীদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আগুন। চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানের পড়াশোনার খরচ আকাশচুম্বী। এমন বাস্তবতায় গ্রেড ১১ থেকে ২০ পর্যন্ত মাত্র ৫০০ বা ৩০০ টাকার ব্যবধান অবাস্তব ও উপহাসের শামিল। এতে করে দীর্ঘ চাকরিজীবনেও কর্মচারীরা আর্থিক নিরাপত্তা বা মূল বেসিকের কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পে-স্কেল পুনর্নির্ধারণের সময় আয় বৈষম্য দূর করা এবং মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিটি গ্রেডের মধ্যে যৌক্তিক ও সমতার ভিত্তিতে বেসিকের ব্যবধান নির্ধারণ করা জরুরি। অন্যথায় এই প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনে ও নিম্ন স্তরের কর্মচারীদের মধ্যে বড় ধরনের অসন্তোষ দানা বাঁধতে পারে।

প্রস্তাবিত পে-স্কেল ২০২৫: গ্রেড ১১ থেকে ২০-এ বৈষম্যের পাহাড়, বেসিকের ব্যবধান মাত্র ৫০০ টাকা!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *