Latest

ব্যাংকিং খাতে বড় পরিবর্তন: নিয়োগ, সনদ যাচাই ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ নির্দেশনা

দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করতে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, স্থায়ীকরণ, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাই এবং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ব্যাংকের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ার পাশাপাশি ভুয়া সনদ ব্যবহার, অস্বচ্ছ নিয়োগ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আরও শক্তিশালী হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ (BRPD-1) ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিআরপিডি-১ সার্কুলার নং-১৮ জারি করে দেশের কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দিয়েছে। সার্কুলারটির বিষয় হলো—‘মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন/হালনাগাদকরণ এবং কর্মকর্তা/কর্মচারী নিয়োগ ও স্থায়ীকরণ’

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৩১ মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে নতুন মানবসম্পদ নীতিমালা

নতুন নির্দেশনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো—প্রতিটি ব্যাংককে নির্দিষ্ট বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে যুগোপযোগী মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন অথবা বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, নতুন বা হালনাগাদকৃত মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ৩১ মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।

অর্থাৎ শুধু নীতিমালা তৈরি করলেই হবে না; সেটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনও নিতে হবে।

মানবসম্পদ নীতিমালায় থাকবে ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় ন্যূনতম ১৮টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

১. স্থায়ী ও অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ
২. শিক্ষানবিশকাল ও স্থায়ীকরণ
৩. প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন
৪. বেতন, ভাতা, সম্মানী এবং চাকরিসংক্রান্ত অন্যান্য সুবিধা
৫. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ঋণ/আমানত সুবিধা
৬. কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন
৭. যোগ্যতা নির্ধারণ, পদোন্নতি ও পদাবনমন
৮. পদায়ন ও বদলি
৯. শীর্ষ নির্বাহী/C-Suite কর্মকর্তাদের উত্তরাধিকার পরিকল্পনা
১০. চাকরির অবসান, পদত্যাগ, চাকরিচ্যুতি ও পুনর্নিয়োগ
১১. ছুটি ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিধান
১২. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণবিধি
১৩. শৃঙ্খলা ও স্বার্থের সংঘাত ব্যবস্থাপনা
১৪. দাপ্তরিক গোপনীয়তা ও Whistle Blower Policy
১৫. চাকরিরত অবস্থায় ব্যক্তিগত ব্যবসা বা অন্য পেশায় যুক্ত থাকার বিধান
১৬. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ ও অসন্তোষ নিরসন পদ্ধতি
১৭. অনিয়ম/অপকর্মের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা, আপিল, পুনর্বিবেচনা ও পুনরীক্ষণ
১৮. বৈচিত্র্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ এবং কর্মস্থলে হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা।

এর মাধ্যমে ব্যাংকের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে শুধু নিয়োগকেন্দ্রিক না রেখে চাকরিতে প্রবেশ থেকে পদোন্নতি, বদলি, শাস্তি, অভিযোগ, অবসর ও নেতৃত্বের উত্তরাধিকার—পুরো কর্মজীবনকে একটি নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এন্ট্রি পদে নিয়োগে ২টি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি বাধ্যতামূলক

নতুন নির্দেশনায় ব্যাংকারদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে এন্ট্রি লেভেলের পদে

যেসব পদে প্রার্থীর পূর্ব অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক নয় এবং সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়, সেসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট/জব সাইটের পাশাপাশি কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। এর উদ্দেশ্য হলো চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আবেদন করার সুযোগ সমান করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় উদাহরণ হিসেবে এন্ট্রি পদের মধ্যে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার, সিনিয়র অফিসার, প্রবেশনারি অফিসার বা সমমানের পদ এবং ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, জুনিয়র অফিসার, ট্রেইনি ক্যাশ অফিসার, জুনিয়র ক্যাশ অফিসার, ক্যাশ অফিসার বা সমমানের পদ উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংকভেদে এসব পদের নাম ভিন্ন হতে পারে।

এর অর্থ কী?

এর ফলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিজেদের ওয়েবসাইটে সীমিতভাবে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়োগ সম্পন্ন করার সুযোগ কমবে। চাকরিপ্রার্থীদের কাছে নিয়োগের তথ্য আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষ করে নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অভিজ্ঞতা না থাকা প্রার্থীদের জন্য সরাসরি এন্ট্রি পদে আবেদন করার সুযোগকে আরও উন্মুক্ত করার লক্ষ্য এখানে স্পষ্ট।

লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষাও থাকবে

এন্ট্রি পদে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে সশরীরে অংশগ্রহণ অথবা অনলাইন অ্যাসেসমেন্ট প্রক্রিয়ায় নৈর্ব্যক্তিক ও/অথবা লিখিত পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষা আয়োজনের কথা বলা হয়েছে।

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সবচেয়ে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

অর্থাৎ শুধু সাক্ষাৎকারনির্ভর নিয়োগের পরিবর্তে প্রার্থীর মেধা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষাভিত্তিক প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিজ্ঞ ব্যাংকার নিয়োগেও প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি

নতুন নিয়ম শুধু এন্ট্রি লেভেলের নিয়োগেই সীমাবদ্ধ নয়।

এন্ট্রি পদ ছাড়া অন্যান্য উচ্চতর পদে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম মৌখিক পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশনা রয়েছে।

ফলে অন্য ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি উচ্চতর পদে লোক নিয়োগের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করার চাপ তৈরি হলো।

যোগদানের এক বছরের মধ্যে শিক্ষাগত সনদ যাচাই

ব্যাংকারদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলোর একটি হলো শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাই

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী ব্যাংকে যোগদানের পর এক বছরের মধ্যে তার সর্বশেষ অর্জিত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র যাচাই সম্পন্ন করতে হবে

এখানেই শেষ নয়। সার্কুলার জারির আগে যারা ব্যাংকে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদও ৩১ মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে একইভাবে যাচাই সম্পন্ন করতে হবে।

অর্থাৎ নতুন নিয়মটি শুধু ভবিষ্যতের নিয়োগপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে নয়; ইতোমধ্যে ব্যাংকে কর্মরতদের ক্ষেত্রেও এর একটি অংশ কার্যকর হবে।

অন্য ব্যাংক থেকে কর্মকর্তা এলে নতুন করে সনদ যাচাইয়ের বিধান

অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের প্রতিষ্ঠান প্রার্থীর শিক্ষাগত সনদ যাচাই করেছে—এমন প্রত্যয়ন থাকলেও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠান বা ইনস্টিটিউট থেকে আলাদাভাবে সনদ যাচাই করতে হবে না—এমন ব্যবস্থাও নির্দিষ্ট শর্তে রাখা হয়েছে।

তবে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আগের ব্যাংক থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সময় Release Order-এ তার শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো সনদ যাচাই করা হয়েছে কি না, তা উল্লেখ করতে হবে

এর ফলে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে চাকরি পরিবর্তনের সময়ও শিক্ষাগত যোগ্যতার যাচাই সংক্রান্ত তথ্য নথিভুক্ত রাখার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

পদোন্নতির সময় জমা দেওয়া সনদ সংরক্ষণ করতে হবে

চাকরিতে যোগদানের পর কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী পদোন্নতি অথবা আর্থিক কিংবা অ-আর্থিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নতুন কোনো Professional Certification বা শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জমা দিলে সেটিও যাচাই করতে হবে।

যাচাইকৃত এসব সনদ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগত নথিতে সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এটি ভবিষ্যতে পদোন্নতি বা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ভুয়া বা অযাচাইকৃত সনদ ব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভুয়া সনদ ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা

নতুন নির্দেশনার সবচেয়ে কঠোর অংশ হলো জাল শিক্ষাগত সনদ সংক্রান্ত ব্যবস্থা।

নিয়োগের সময় কিংবা চাকরিতে যোগদানের পর কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

এছাড়া এ-সংক্রান্ত তথ্য CMMS—Corporate Memory Management System-এ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

অর্থাৎ কোনো কর্মীর ভুয়া সনদ ব্যবহারের তথ্য শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নথিতে সীমাবদ্ধ না রেখে নির্ধারিত ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ব্যাংকিং খাতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ, যোগ্যতা যাচাই, জবাবদিহিতা এবং করপোরেট সুশাসন আরও শক্তিশালী করা।

একজন ব্যাংকারের সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব সরাসরি আমানতকারী, ঋণগ্রহীতা এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিয়োগের সময় প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাই এবং চাকরিতে প্রবেশের পর তার তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা ব্যাংকিং খাতের আস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকও সার্কুলারে উল্লেখ করেছে যে, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করে গ্রাহকের আস্থা অর্জনের জন্য এসব নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

ব্যাংকারদের জন্য সম্ভাব্য বড় প্রভাব

নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকারদের নিয়োগ ও ক্যারিয়ার ব্যবস্থাপনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যেতে পারে—

প্রথমত, এন্ট্রি লেভেলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আরও ব্যাপকভাবে প্রচারিত হবে।

দ্বিতীয়ত, লিখিত/নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাইয়ের গুরুত্ব বাড়বে।

তৃতীয়ত, চাকরিতে যোগদানের পর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাই একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়ায় পরিণত হবে।

চতুর্থত, পদোন্নতির সময় নতুন শিক্ষাগত বা পেশাগত সনদ জমা দিলে তার সত্যতা যাচাই করতে হবে।

পঞ্চমত, ভুয়া সনদ ব্যবহার করলে শুধু চাকরির অভ্যন্তরীণ শাস্তিই নয়, সংশ্লিষ্ট তথ্য CMMS-এ অন্তর্ভুক্ত করার কারণে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

ষষ্ঠত, ব্যাংকের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় পদোন্নতি, বদলি, অভিযোগ, শৃঙ্খলা, স্বার্থের সংঘাত, হয়রানি প্রতিরোধ ও Whistle Blower Policy-এর মতো বিষয়গুলো আরও কাঠামোবদ্ধ হবে।

শুধু নিয়োগ নয়, বদলে যাচ্ছে পুরো HR কাঠামো

বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সার্কুলারটি মূলত শুধু ‘ব্যাংকে চাকরি পাওয়ার নিয়ম’ পরিবর্তন করছে না। বরং ব্যাংকগুলোর Human Resources Management বা HR ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

নিয়োগ থেকে স্থায়ীকরণ, প্রশিক্ষণ থেকে কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন, পদোন্নতি থেকে বদলি, শাস্তি থেকে অভিযোগ নিষ্পত্তি—প্রায় পুরো কর্মজীবনকে নীতিমালার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উত্তরাধিকার পরিকল্পনা, স্বার্থের সংঘাত, অফিসিয়াল গোপনীয়তা এবং কর্মস্থলে হয়রানি প্রতিরোধকেও HR নীতির অংশ করা হয়েছে।

এ কারণে এটিকে ব্যাংকিং খাতের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি কাঠামোগত সংস্কারের নির্দেশনা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য কী বার্তা?

ব্যাংকে চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য নতুন নির্দেশনার সবচেয়ে বড় বার্তা হলো—নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও প্রতিযোগিতামূলক ও নথিনির্ভর হতে পারে।

বিশেষ করে এন্ট্রি লেভেলের চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে।

একইভাবে বর্তমানে ব্যাংকে কর্মরতদেরও নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত সনদপত্রের তথ্য সঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

শেষ কথা

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি-১ সার্কুলার নং-১৮ ব্যাংকিং খাতে নিয়োগ ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে এন্ট্রি পদে গণবিজ্ঞপ্তি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, এক বছরের মধ্যে শিক্ষাগত সনদ যাচাই, পুরোনো কর্মীদের সনদ যাচাইয়ের সময়সীমা এবং ভুয়া সনদের তথ্য CMMS-এ সংরক্ষণের নির্দেশনা নিয়োগ ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা বাড়াতে পারে।

একই সঙ্গে ৩১ মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে প্রতিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে নতুন বা হালনাগাদকৃত মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুমোদন করতে হবে। ফলে আগামী কয়েক মাসে ব্যাংকগুলোর নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন, শৃঙ্খলা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক, বিআরপিডি-১ সার্কুলার নং-১৮, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬। বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল সার্কুলার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *