Latest

বাংলাদেশ পুলিশে ৪ হাজার এসআই পদ সৃষ্টির উদ্যোগ, অর্থ বিভাগের সম্মতির অপেক্ষা

বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ইউনিটের সাংগঠনিক কাঠামোতে ৪ হাজার উপপরিদর্শক (এসআই—গ্রেড-১০, নিরস্ত্র) পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-৩ শাখা থেকে প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণের পর প্রশাসন মন্ত্রণালয় পদ সৃষ্টিতে সম্মতি দিয়েছে। এখন পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জন্য অর্থ বিভাগের সম্মতির প্রয়োজন রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখের সংশ্লিষ্ট নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। নথির বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—‘বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ইউনিটের সাংগঠনিক কাঠামোতে ৪০০০টি এসআই (গ্রেড-১০) (নিরস্ত্র) পদ সৃজন’।

নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ইউনিটের সাংগঠনিক কাঠামোতে সরাসরি নিয়োগযোগ্য ৪ হাজার এসআই পদ সৃষ্টির প্রস্তাব প্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। ওই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ইউনিটের সাংগঠনিক কাঠামোতে ৪ হাজার এসআই (গ্রেড-১০) (নিরস্ত্র) পদ সৃষ্টিতে সম্মতি দিয়েছে।

তবে প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়ার পরই পদগুলোতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়ে যাচ্ছে—এমনটি নথিতে বলা হয়নি। বরং পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে অর্থ বিভাগের সম্মতি প্রয়োজন বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী নতুন প্রস্তাব

নথিতে আরও বলা হয়েছে, উল্লিখিত বিষয়ে অর্থ বিভাগের নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী দুই সেট প্রস্তাব পাঠানোর পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনার অনুরোধ করা হয়েছে। অর্থাৎ পদ সৃষ্টির প্রশাসনিক সম্মতির পর এখন অর্থনৈতিক ও আর্থিক যাচাই-বাছাইয়ের ধাপটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এর ফলে পুরো প্রক্রিয়াটিকে কয়েকটি ধাপে দেখা যায়—প্রথমে পুলিশের প্রয়োজন ও সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে পদ সৃষ্টির প্রস্তাব, এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি এবং সবশেষে অর্থ বিভাগের প্রয়োজনীয় সম্মতি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

৪ হাজার পদ কেন গুরুত্বপূর্ণ

একসঙ্গে ৪ হাজার এসআই পদ সৃষ্টির উদ্যোগ বাংলাদেশ পুলিশের জনবল কাঠামো সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পদক্ষেপ। এসআই পদটি মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, তদন্ত, মামলা-সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং পুলিশি সেবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

বিভিন্ন ইউনিটের সাংগঠনিক কাঠামোয় নতুন পদ যুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর জনবল ঘাটতি পূরণ, দায়িত্ব বণ্টন এবং মাঠপর্যায়ে পুলিশের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোন কোন ইউনিটে কতটি পদ থাকবে এবং পদগুলো কীভাবে বণ্টন করা হবে—এ বিষয়ে প্রকাশিত নথিতে বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হয়নি।

সরাসরি নিয়োগের বিষয়টি কী বোঝাচ্ছে

নথিতে ৪ হাজার পদকে ‘সরাসরি নিয়োগযোগ্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর্যায়ে গেলে এসব পদের একটি বড় অংশে সরাসরি প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমানে এটিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা নিয়োগের চূড়ান্ত ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

কারণ, নথিতে এখনো অর্থ বিভাগের সম্মতির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ রয়েছে। অর্থ বিভাগের সম্মতি এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে স্পষ্টতা আসবে।

চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য কী বার্তা

৪ হাজার এসআই পদ সৃষ্টির উদ্যোগ পুলিশের চাকরিতে আগ্রহী বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর জন্য সম্ভাবনার খবর হলেও এখনই নিয়োগের আবেদন শুরু হয়েছে বা সার্কুলার প্রকাশ হয়েছে—এমন তথ্য নথিতে নেই। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সম্ভাব্য নিয়োগসংক্রান্ত পোস্টকে চূড়ান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হিসেবে ধরে আবেদন বা অন্য কোনো আর্থিক লেনদেন করা উচিত নয়।

নথির বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—৪ হাজার এসআই (গ্রেড-১০, নিরস্ত্র) পদ সৃষ্টিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়া গেছে এবং পরবর্তী ধাপে অর্থ বিভাগের সম্মতির প্রয়োজন রয়েছে।

অনলাইনে পাওয়া সাম্প্রতিক পোস্ট ও আলোচনাতেও ৪ হাজার এসআই পদ সৃষ্টির বিষয়টি ছড়িয়ে পড়েছে, তবে সেগুলো মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক তথ্য। তাই পদ সৃষ্টির প্রশাসনিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিকেই বেশি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

এখন অপেক্ষা অর্থ বিভাগের সম্মতির

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ পুলিশের জন্য ৪ হাজার নতুন এসআই পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়া গেলেও অর্থ বিভাগের সম্মতি এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা এখনো বাকি। এসব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই পদগুলোর নিয়োগ কাঠামো, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি ও নিয়োগের সময়সূচি সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য জানা যাবে।

সুতরাং বর্তমান তথ্যের সারকথা হলো—বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে ৪ হাজার এসআই (গ্রেড-১০, নিরস্ত্র) পদ সৃষ্টির প্রস্তাবে প্রশাসনিক সম্মতি মিলেছে; এখন অর্থ বিভাগের সম্মতি ও পরবর্তী প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্টরা।

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *