২০২৭ হিজরি মৌসুমে সরকারি হজ গাইড নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: আবেদনের শেষ সময় ৮ সেপ্টেম্বর
আসন্ন ২০২৭ হজ মৌসুমে সরকারি মাধ্যমের হাজিদের সেবা প্রদানে ‘হজ গাইড’ হিসেবে নিয়োগে আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিকট থেকে দরখাস্ত আহ্বান করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে মন্ত্রণালয়ের হজ-৩ (ওমরাহ) শাখা থেকে সিনিয়র সহকারী সচিব মো: তফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীরা আগামী ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত ফরম পূরণ করে শুধুমাত্র অনলাইনে www.hajj.gov.bd/hajjguide (হজ পোর্টাল) লিংকের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। সরাসরি বা অফলাইনে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য ১৬১৩৬ নম্বরে ফোন করে বিস্তারিত জানা যাবে।
একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ:
আবেদনের শেষ তারিখ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আবেদনের মাধ্যম: অনলাইন পোর্টাল (www.hajj.gov.bd/hajjguide)
বয়সসীমা: ৩২ থেকে ৬২ বছর
হেল্পলাইন: ১৬১৩৬
স্মারক নম্বর: ১৬.০০.০০০০.০২২.৩৮.০০৬.২৬-২০০ (তারিখ: ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ / ২৭ জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ)
হজ গাইড নিয়োগের প্রধান যোগ্যতা ও শর্তাবলি
বিজ্ঞপ্তিতে হজ গাইড হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য বেশ কিছু কঠোর ও সুনির্দিষ্ট শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য শর্তগুলো হলো:
অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান: প্রার্থীকে ন্যূনতম একবার হজ পালন করতে হবে এবং হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন-২০২১, হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০২২ (সংশোধিত), হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন, লাগেজ রুলস এবং সৌদি আরবের বিধি-বিধান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে। পাশাপাশি হজের সফরে উদ্ভূত যেকোনো সমস্যা মোকাবিলায় পারদর্শী হতে হবে।
বয়সসীমা: প্রার্থীর বয়স ন্যূনতম ৩২ বছর এবং অনধিক ৬২ বছরের মধ্যে হতে হবে। এছাড়া প্রার্থীকে শারীরিকভাবে সক্ষম ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম এসএসসি/সমমানের সনদ থাকতে হবে (এইচএসসি, স্নাতক বা স্নাতকোত্তরধারীরাও আবেদন করতে পারবেন)। এছাড়া কোরআন তেলাওয়াতে পারদর্শী হওয়া বাধ্যতামূলক।
হাজি সংগ্রহ: প্রার্থীর নিজস্ব ইউজার আইডিতে ৪৪ জন (কম/বেশি) হাজি সংগ্রহ করলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রার্থী নিজ আইডি হতে হাজি নিবন্ধন করবেন, যা হাজি সংগ্রহের প্রমাণক হিসেবে গণ্য হবে।
ব্যক্তিত্ব ও অন্যান্য দক্ষতা: প্রার্থীকে শরীয়ত ও সুন্নতের অনুসারী ও বিনয়ী হতে হবে। আরবি ভাষায় দক্ষ এবং আইটি জ্ঞানসম্পন্ন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মোবাইল অ্যাপস ব্যবহারে পারদর্শিতা আবশ্যক।
নিষেধাজ্ঞা: হজ এজেন্সির স্বত্বাধিকারী, অংশীদার, এজেন্ট বা মোনাজ্জেমগণ হজ গাইড হতে পারবেন না। এছাড়া হজ কার্যক্রমের ব্যতিক্রমী প্রকৃতির কারণে নারী প্রার্থীদের আবেদনে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে এবং সাক্ষাৎকারের সময় অনুমোদনের কপি দাখিল করতে হবে।
অন্যান্য নিয়মাবলি ও সতর্কতা
সাক্ষাৎকার ও প্রশিক্ষণ: প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ হজ গাইড নিয়োগ কমিটির সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হতে হবে। সাক্ষাৎকারে উপস্থিতির জন্য কোনো প্রকার টিএ/ডিএ প্রদান করা হবে না। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হজ গাইডদের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হবে।
বাতিলকরণ: হজ গাইড হিসেবে দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে এবং যেকোনো অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ আবেদন সরাসরি বাতিল করা হবে।
কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা: ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় হজ গাইড নিয়োগ, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিষয়ে যেকোনো শর্ত আরোপ বা শিথিলসহ নিয়োগ প্রক্রিয়া যেকোনো সময় বাতিল করার পূর্ণ ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।

