চাকরি সরকারি নাকি বেসরকারি?

বাংলাদেশ একটি নিম্নমধ্যবিত্ত আয়ের দেশ। এদেশের শিক্ষিতের হার বাড়ার সাথে সাথে দ্রুত হারে বাড়ছে বেকারত্বের সংখ্যা। বিভিন্ন রকমের পেশার মধ্যে চাকরি একটি অন্যতম পছন্দের পেশা। যুব সমাজ শিক্ষা জীবন শেষ করে ছোটেন চাকরি পিছিনে এর কারণও রয়েছে। অন্যান্য পেশার চেয়ে চাকরি একটি নিরাপদ পেশা এবং ঝুকিঁও নেই বললেই চলে। তাছাড়া আমাদের দেশে খালি হাতে ঋণ পাওয়া সুযোগ সীমিত। সরকারি এবং বেসরকারি খাতে কোন ধরনের ব্যবসা শুরু করলে তাতে সুদমুক্ত ঋণ পাওয়া সম্ভব হয় না।

সরকারি নাকি বেসরকারি?

বাংলাদেশের প্রতি বছর হাজার হাজার ছেলে মেয়ে পাশ করে বের হচ্ছে। স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পাশ করেই লেগে পড়ে একটি ভাল চাকরির পিছনে। মোট শিক্ষিত বেকার যুবকের মাত্র ২ শতাংশ পায় সরকারি চাকরি। তাছাড়া দেশে মোট চাকরি সংখ্যাও সীমিত। বেসরকারি খাতেও চাকরি প্রত্যাশীদের তুলনায় খালি পদের সংখ্যা তেমন বেশি হয়। তাই সরকারি হোক বা বেসরকারি চাকরি তাতে রয়েছে অনেক বেশি প্রতিযোগিতা। ভাল করে চাকরির প্রস্তুতি নেয়ার জন্যও গড়ে উঠেছে অসংখ্যা কোচিং ও প্রাইভেট টিচিং হোম। পড়াশুনার পাঠ চুকিয়েও তাদের চাকরির প্রতিযোগিতায় টিকতে চাকরির জন্য আলাদা পড়াশুনা করতে হয়। তাই সরকারি চাকরি বা বেসরকারি চাকরি দুটোতেই যেমন রয়েছে শিক্ষিত সমাজের আগ্রহ তেমনি রয়েছে সীমাবদ্ধতা। সরকারি চাকরি নিরাপদ ও নিশ্চিত জীবন হলেও সরকারি চাকরি বিধিমালা মতে এখানে পদোন্নতি ও বেতন বৃদ্ধির সুবিধা নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যে বাধাগ্রস্থ। জ্যেষ্ঠতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হয় পদোন্নতির ক্ষেত্রে ফলে আপনি জ্যেষ্ঠতা লঙ্গন করে পারফরমেন্স দেখিয়ে কোন ভাবেই বয়োজ্যেষ্ঠতা ছাপিয়ে পদোন্নতি পাবেন না। তাছাড়া সরকারি চাকরিতে ইচ্ছা পোষক করলেই কর্তৃপক্ষ বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি ইচ্ছামত দিতে পারবে না। সেদিক থেকে দ্রুত পদোন্নতি এবং পরিশ্রম ও কাজের মূল্যালয়নে সীমাহীন বেতন বৃদ্ধি সুযোগ রয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। তাই যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা অনুসারে সুযোগ সুবিধা পেতে বেসরকারি চাকরির জুড়িমেলাভার। বেসরকারি চাকরিগুলোতে কর্তৃপক্ষ কাজ ও যোগ্যতাকে মূল্যায়ন করে, তাদের নিজস্ব নীতিমালা অনুসারে পদোন্নতি দিয়ে থাকে। কাজের ধরণ ও গতি অনুসারে পদোন্নতি হয়, যার পারফরমেন্স ভাল তার পদোন্নতি ও বেতন বৃদ্ধি দ্রুত হয়। তাছাড়া অন্যান্য সুযোগ সুবিধা তুলনামূলকভাবে সরকারি চাকরির চেয়ে অনেকগুন বেশি পাওয়া যায়। আবার চাকরি নিরাপত্তার কথা চিন্তা করলে সরকারি চাকরির সাথে অন্য কোন পেশার তুলনা করা যায় না।

সরকারি চাকরি কাদের জন্য ভাল?

সরকারি চাকরি সবার জন্যই ভাল হতে পারে তবে প্রত্যেকটি মানুষের চাহিদা ভিন্ন ও দক্ষতা ও যোগ্যতার মূল্যায়নের ধ্যান ধারনা ভিন্ন হয়। আপনি যদি জীবন ও চাকরির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেন তবে সরকারি চাকরি আপনার জন্য ভাল। আপনি যদি বেতন ভাতা নিয়ে না ভেবে জনসেবা এবং নিজের জীবন ও চাকরির নিরাপত্তার বিষয়ে ভেবে থাকে তবে সরকারি চাকরি আপনার জন্যই। স্বল্প বেতন ও ভবিষ্যত আর্থিক নিরাপদ জীবনের কথা ভাবলে সরকারি চাকরিই আপনার পছন্দের তালিকায় থাকা উচিৎ। ধীরগতিতে বেতন বৃদ্ধি, স্বল্প বেতন এবং চাকরি শেষে বড় অংকের এককালিন সরকারি সুবিধায় আপনার মন তুষ্ট থাকলে সরকারি চাকরি আপনারই জন্য। জনগন তথা দেশের সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করতে চাইলেও সরকারি চাকরি আপনাকে ডাকছে। তাছাড়া চাকরি শেষে বড় অংকের আনুতোশিক এবং মাসিক পেনশন আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

বেসরকারি চাকরি কাদের জন্য ভাল?

উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্য এবং দক্ষ ব্যক্তি জন্য বেসরকারি চাকরি। যারা নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রাখেন পরিশ্রমই সৌভাগ্যের প্রসূতি তাদের জন্য বেসরকারি চাকরি অপেক্ষমান। অতি অল্প সময়ে যারা নিজেকে ভাল অবস্থানে দেখতে চান এবং দ্রুত বেতন ভাতাদি বর্ধন প্রাপ্তির ইচ্ছা পোষণ করে তাদের জন্য ফার্মের চাকরি। ব্যক্তিগত ফার্মে চাকরি টিকিয়ে রাখতে আপনাকে নিরলস পরিশ্রম করে যেতে হবে। বেসরকারি চাকরি একটি পরিশ্রমী এবং ত্যাগী জীবনের পাথেয়। আপনাকে খুব বেশি ডেডিকেটেড হতে হবে, আপনার পুরোটা দিয়ে কাজে মনোনিবেশ করতে হয়। কালই আপনার চাকরি চলে যেতে পারে, এ চাকরি নেই কোন নিরাপত্তা এবং চাকরি শেষে নেই পেনশন সুবিধা। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং গ্র্যাচুইটি সুবিধা রয়েছে। চাকরি পাওয়া ও হারানোর মনমানসিকতা রাখতে হবে এই ভেবে যে, ভাল কিছু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। বেসরকারি চাকরি কালীন ভাল অংকের বেতন ভাতাদি ও প্রণোদনা পাওয়া যায় বিধায় প্রাইভেট চাকরি অনেকেরই পছন্দের তালিকায় এখন। তাছাড়া দ্রতু পদোন্নতি ও বেতন বৃদ্ধি চটকদার সুযোগ সুবিধা বেসরকারি চাকরি এখন লোভনীয় পর্যায়ে রয়েছে। এটাও ভেবে দেখা দরকার মোট শিক্ষিত যুবকের মাত্র ২ শতাংশ সরকারি চাকরি পাবেন বাকি সবারই প্রাইভেট জবই করতে হবে।

পরিশেষে এটা আপনাকে ভেবে দেখতে হবে যে, মানসিক ও শারিরিকভাবে আপনি সরকারি নাকি বেসরকারি চাকরির জন্য উপযুক্ত। উচ্চশিক্ষা ও তীক্ষ্ন স্কীল থাকলে সংগ্রামী ও পরিশ্রমী উন্নত জীবন যাপনের জন্য বেসরকারি চাকরি। অপরদিকে অনুউন্নত ও অলস বা ক্রমবর্ধন জীবন যাপনের জন্য সরকারি চাকরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

close